Print Paper - news69bd.com - Publish Date : 14 September 2018

পুরুষ কমছে, বাড়ছে বিধবা

পুরুষ কমছে, বাড়ছে বিধবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৪ সেপ্টেম্বর : ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে চলমান সহিংসতায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এখানকার হাজার হাজার নারী। সহিংসতায় খালি হচ্ছে অগণিত মায়ের কোল। স্বামী হারিয়ে স্ত্রী হচ্ছে বিধবা। বোন হারাচ্ছেন আদরের ভাইকে।
 
এভাবে সেখানে দ্রুতই কমে যাচ্ছে পুরুষের সংখ্যা। বাড়ছে বিধবাদের নীরব মিছিল। পুরুষ সদস্যহীন পরিবারগুলো পড়ছে চরম বিপাকে। এক রকম ভিখারির জীবন কাটাচ্ছে এসব নারী। মঙ্গলবার হেরাল্ড ডনের এক প্রতিবেদনে এ সব তথ্য উঠে এসেছে।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস। কাশ্মীরের শ্রীনগর থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে অনন্তনাগ জেলায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর পিলেট গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় ইয়ার আহমেদ দারের বুক।

১৮ বছরের জোয়ান ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে যান মা নারগিস বানু। তিনি কিছুতেই মানতে চান না, তার ছেলে আর নেই। সেই ছেলের জন্য আজও চোখের পানি ফেলে চলেছেন নারগিস বানু। একই বছরের জুলাই মাসে বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের নেতা বুরহান ওয়ানি নিহত হওয়ার পর ভারতীয় বাহিনীর হাতে নিহত হয় ১৪৬ জন পুরুষ।

ওয়ানির মৃত্যুর পর যে হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়েছে গত দুই বছর ধরে তা একইভাবে অব্যাহত রয়েছে। তবু দমেনি কাশ্মীরিরা। প্রশাসনের হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে চলছে বিক্ষোভ-আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান। এটাই প্রথম নয়।

গত ত্রিশ বছর ধরে চলছে এমন বিক্ষোভ। বিপরীতে এই সময়ে জোরপূর্বক গুম-হত্যার শিকার হয়েছে হাজার মানুষ। ফলে নিহতদের পরিবার পোহাচ্ছে এক অন্তহীন যন্ত্রণা।

দিল্লি ইন্ডিয়ান সোশ্যাল ইন্সটিটিউটের প্রধান জেসুইট পল ডি সুজা এক গবেষণায় প্রকাশ করেছেন, ১৯৮৯ সাল থেকে কাশ্মীরে স্বামী হারিয়েছেন ৮ হাজারের বেশি নারী। তারা এখনও জানেন না, তাদের স্বামী বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন। সরকারি বাহিনীর সদস্যরা ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের আর হদিস মেলেনি।

তাদের দুঃখের সীমা নেই। কিন্তু তাদের দুঃখের কথা শোনারও কেউ নেই। স্থানীয় বা কেন্দ্রীয় সরকারের এ বিষয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। এ ধরনের নারীদেরকে বলা হয় ‘আধা-বিধবা।

ভাগ্যপীড়িত এসব নারী জানতে চান, তাদের স্বামী বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন। কিন্তু তাদের এ সামান্য অধিকারটুকুও পূরণ করার জন্য এগিয়ে আসছে না সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো।

এমন নারীদের কেউ কেউ বলেছেন, ‘আমরা তো মুসলমান! সরকার কি আমাদের দাবি শুনবে? তবে এ ব্যাপারে সরকারের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। চোখের পানিই আমাদের প্রতিবাদের ভাষা।