Print Paper - news69bd.com - Publish Date : 12 June 2018

দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী

দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ১৩ জুন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানসহ কানাডায় চারদিনের সরকারি সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন। তাকে বহনকারী উড়োজাহাজটি মঙ্গলবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে) দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। খবর বাসস।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। পাঁচ ঘণ্টা যাত্রাবিরতির পর এমিরেটসের আরেকটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সময় বিকাল পৌনে ৫টায় দেশের উদ্দেশে দুবাই ত্যাগ করেন।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুইবেকে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেন। আরও ১৬ বিশ্বনেতার সঙ্গে বিশ্বের অর্থনৈতিক পরাশক্তি দেশ কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্লাটফর্ম গ্র“প অব সেভেন (জি-৭) এর আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেন তিনি। শেখ হাসিনা জাস্টিন ট্র–ডোর সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠকও করেন। টরন্টোতে কানাডা আওয়ামী লীগের এক সংবর্ধনা সভায় বক্তব্য দেন। কানাডার মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত বব রে-এর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়।

শেখ হাসিনা সাসকাটচেওয়ান প্রদেশের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং বাণিজ্য ও রফতানি উন্নয়নমন্ত্রী গর্ডন ওয়েন্ট কিউসি, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ক্যারিয়ার ট্রেনিং বিষয়কমন্ত্রী জেরিমি হ্যারিসন এবং প্রদেশের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। টরন্টো ছাড়ার আগে প্রধানমন্ত্রী কমার্শিয়াল কর্পোরেশন অব কানাডার (সিসিসি) প্রেসিডেন্ট ও সিইও মার্টিন জেবলোকির সঙ্গে বৈঠক করেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত ত্রাণকর্মীদের বিশেষ ভিসা : শেখ হাসিনা কানাডার মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত বব রেকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে কর্মরত বিদেশি ত্রাণকর্মীদের ভিসা সমস্যা সমাধান করা হবে। বব রে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার হোটেল স্যুটে দেখা করতে এলে শেখ হাসিনা এ আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, সরকার সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি দেখাশোনা করছে। কারণ ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে এসে অনেক বিদেশি নাগরিক রোহিঙ্গা শিবিরে কাজ করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ত্রাণকর্মীর বেশে বহু বিদেশি নাগরিকের অনুপ্রবেশে সরকার শঙ্কিত, যা নারী ও শিশু পাচার, যৌন অপব্যবহার, সন্ত্রাস এবং অন্যান্য সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি বলেন, সরকার এ সমস্যা সমাধানে ত্রাণকর্মীদের জন্য বিশেষ ক্যাটাগরি ভিসা ইস্যু করছে। এ ব্যাপারে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা সরকারকে জানানোর জন্য তিনি বিশেষ দূতকে অনুরোধ করেন।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, বব রে প্রধানমন্ত্রীকে জানান, তিনি ২০১৭ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির পরিদর্শনের ওপর একটি প্রতিবেদন তৈরি করছেন। পরিদর্শনকালে তিনি সহিংসতার কারণে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুর্দশা স্বচক্ষে দেখেছেন। তিনি বলেন, ১০ লাখ মানুষকে আশ্রয় দেয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে তারা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন।

প্রেস সেক্রেটারি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং বব রে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রোহিঙ্গাদের সম্ভাব্য ভোগান্তির বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূতকে জানান, প্রশিক্ষিত লোকজনের একটি দল যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রস্তুত রয়েছে।

বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে আগ্রহ : পরে সাসকাটচেওয়ান প্রদেশের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং বাণিজ্য ও রফতানি উন্নয়নমন্ত্রী গর্ডন ওয়েন্ট কিউসি এবং অভিবাসনমন্ত্রী জেরেমি হ্যারিসন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তারা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ে আলোচনা করেন। তারা বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরে আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, শিক্ষা ও নার্সিং খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের অনেক সুযোগ রয়েছে।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিসিসি প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করে। প্রতিনিধি দলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভ‚ত কানাডীয় ব্যবসায়ীরাও ছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ডের (বিডা) চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলাম, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এবং কানাডায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মিজানুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।