adimage

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সকাল ১১:৩৫, বুধবার

টানা ১০ ঘণ্টা জঙ্গি আতঙ্ক, অবশেষে ওসমানীতে অবতরণ

আপডেট  03:03 AM, মার্চ ১৬ ২০১৮   Posted in : সিলেট    

টানা১০ঘণ্টাজঙ্গিআতঙ্ক,অবশেষেওসমানীতেঅবতরণ

সিলেট, ১৬ মার্চ : টানা ১০ ঘণ্টা জঙ্গি আতঙ্ক নিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট নির্বিঘ্নে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণকরেছে। বিমানটির ফ্লাইট ক্যাপ্টেন ইসমাইল, ফার্স্ট অফিসার আর ক্রুরা নিজেদের মধ্যে চাপ নিলেও যাত্রীদের রেখেছিলেন নিরাপদে।

জঙ্গি আতঙ্কের খবর জানিয়েছিলেন বিমান বন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারেও। বিমানটি ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণের আগেই বিমানবন্দরে বিপুল পরিমান পুলিশ-র‌্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা জড়ো হন। যে কোনো ধরণের হামলা মোকাবেলায় সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ৩ ঘন্টা তল্লাশি শেষে জানা গেছে, বিমানটি নিরাপদ।

বিমান বন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা জানান, বোয়িং-৭৭৭ বিমানটি হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে সিলেটের উদ্দেশে যাত্রা করে লন্ডনের স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৬ মিনিটে। এক ঘণ্টা পর ফ্লাইটটি জার্মানি অতিক্রম করার সময় হিথ্রো বিমান বন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে পাইলটকে একটি বার্তা দেয়া হয়। সেই সাথে তিনটি ইমেইল পাঠানো হয় বিমানটির গন্তব্যস্থান সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারে।

বার্তায় বলা হয়, বিমানের কোন জঙ্গি যাত্রীবেশে বোমা বহন করে থাকতে পারে। তবে এও বলা হয় সন্দেহটা ক্ষীন মাত্রার। কিন্তু বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জরুরি সংবাদটি পাওয়ার পর ফার্স্ট অফিসার আরিফের সঙ্গে আলোচনা করে কেবিন ক্রু চিফ পার্সার ডলিকে বিষয়টি অবগত করেন ফ্লাইট ক্যাপ্টেন ইসমাইল। দুই পাইলটের নির্দেশনায় ডলি তার ক্রুদের নির্দেশ দেন ফ্লাইটের সকল যাত্রীকে নিরবে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে।

এর মধ্যে পাইলট ক্যাপ্টেন ইসমাইল এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের মাধ্যমে বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবগত করেন। এভাবেই কাটে ১০ ঘণ্টা । প্রথমে বিমানটিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণের সিদ্ধান্ত নিলেও পরে সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণকরে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২০২ ফ্লাইটটি।

এদিকে বার্তা পাওয়ার পর থেকেই সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে। বিমানটি অবতরণের সঙ্গে সঙ্গেই ঘিরে রাখেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে নামিয়ে আনা হয় সকল যাত্রীকে। পরে পুরো বিমান প্রায় তিন ঘণ্টা ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশি করা হয় যাত্রীদেরও । কিন্তু কিছুই মিলেনি।

পরে দুপুর ১টার দিকে নিরাপদ ঘোষণা করা হলে ঢাকার উদ্দেশ্যে সিলেট ত্যাগ করে বিমানটি। এর আগে হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকাগামী যাত্রীদের অন্য একটি ফ্লাইটে তুলে দেন বিমান কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ বিমানের পাবলিক রিলেশন অফিসার মো. শাকিল মেরাজ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ রকম বার্তা পেলে সব সময়ই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মোকাবেলা করার চেষ্টা করা হয়। এ ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়। সব ধরনের ঘটনা মোকাবেলায় প্রস্তুত ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু তল্লাশি শেষে এ ধরনের কিছু খুঁজে পাওয়া যায়নি। বার্তা পাওয়ার পর ১০ ঘণ্টা নির্বিঘ্নে ফ্লাইট পরিচালনা করে গন্তব্যস্থানে পৌছান পাইলট।

বাংলাদেশ বিমান সিলেটের এরিয়া ম্যানেজার শাহ নেওয়াজ এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘এরকম কিছু তথ্য ছিল। তাই তল্লাশি হয়েছে। তবে কিছুই পাওয়া যায়নি।’

একই কথাবলেন ওসমানী বিমানবন্দরের স্টেশন ম্যানেজার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একপ্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের সিকিউরিটি এওয়ারনেস ছিল।’ -যুগান্তর


সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul