adimage

১৭ নভেম্বর ২০১৯
সকাল ০৫:৩৭, রবিবার

সুসম্পর্ক কাজে লাগান বিনিয়োগ করুন: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট  01:52 AM, অক্টোবর ০৫ ২০১৯   Posted in : রাজনীতি    

সুসম্পর্ককাজেলাগানবিনিয়োগকরুন:প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ৫ অক্টোবর : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সুসম্পর্ক কাজে লাগিয়ে ব্যবসা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা একসঙ্গে আরও বাণিজ্য ও বিনিয়োগ দেখতে চাই, যেখানে ভারতীয় বড় বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে শিল্প স্থাপন করতে এবং আমাদের মধ্যে বিদ্যমান উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলো এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোতে পণ্য রফতানি করতে পারে।

বাংলাদেশ ও ভারত বর্তমানে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক উপভোগ করছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও আপনাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সুনিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্লাটফর্মটি রয়েছে এবং আমরা আপনাদের প্রচেষ্টা সহজ করার জন্য সব ধরনের সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুত রয়েছি।
তিনি বলেন, আমি আপনাদের সবাইকে প্লাটফর্মটির সর্বোত্তম ব্যবহার করতে এবং আমাদের জনগণের পারস্পরিক বৃহত্তর স্বার্থে উভয় দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার অনুরোধ করছি এবং এর মাধ্যমে আমরা আমাদের দেশ ও এ অঞ্চলকে আরও সমৃদ্ধ এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী চার দিনের ভারত সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার নয়াদিল্লির আইটিসি মৌর্য হোটেলে বাংলাদেশ-ভারত বিজনেস ফোরামের (আইবিবিএফ) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী ভারতের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কগুলোতে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বেশ কয়েকটি হাইটেক পার্ক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্যও প্রস্তুত রয়েছে।

মোংলা, ভেড়ামারা ও মিরেরসরাইয়ে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য তিনটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ।

এই তিনটি ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের পর্যাপ্ত বিনিয়োগ আমাদের রফতানিযোগ্য খাতকে আরও প্রশস্ত করতে সহায়তা করবে।
সারা দেশে একশ’ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, যার মধ্যে প্রায় ১২টি তৈরি হয়ে গেছে।

এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশের গড়ে ওঠার প্রসঙ্গে ব্যাপক সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, পশ্চিমে ভারত, উত্তর দিকে চীন এবং পূর্বদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, বাংলাদেশ ৪ বিলিয়ন মানুষের বাজারের মাঝামাঝি রয়েছে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বড় একটি অংশ প্রতিবেশী দেশুগুলোর সঙ্গেই হয় মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, একইভাবে ভারতীয় ব্যবসায়ী নেতারা আমাদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে নিতে খুব বড় ভূমিকা পালন করতে পারেন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বা ‘সোনার বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সক্ষম হব এবং এভাবেই আমরা আমাদের শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারি।

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে উদার বিনিয়োগের পরিবেশ বিরাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যার মধ্যে রয়েছে বৈদেশিক বিনিয়োগের আইনি সুরক্ষা, উদার রাজস্ব ব্যবস্থা, মেশিনপত্র আমদানির ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়, আনরেসট্রিকটেড এক্সিট পলিসি, সম্পূর্ণ বিনিয়োগ ও পুঁজি নিয়ে চলে যাওয়ার সুবিধাসহ নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সংসদের প্রাসঙ্গিক আইন এবং দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তির দ্বারা ও বিদেশি বিনিয়োগকে সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের ভারসাম্য এখনও ভারতের পক্ষে রয়েছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে ৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করে ভারত এবং বাংলাদেশ এই দেশটির আটতম বৃহত্তম রফতানি গন্তব্য। ভারতে আমাদের রফতানিও গত বছর প্রথমবারের মতো ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

বাংলাদেশের ১৬ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার দেশ, তরুণ কর্মীবাহিনীর সংখ্যাধিক্য, তুলনামূলক সস্তা শ্রম, বিদ্যুৎ সুবিধা কাজে লাগিয়ে দ্রুত নগরায়ণ এবং মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়গুলো বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথাই বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতে বাংলাদেশে পেঁয়াজসহ যে কোনো পণ্যের রফতানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত আগে থেকে জানানোর জন্য অনুরোধ জানান।

এক পর্যায়ে তিনি হিন্দি ভাষায় বলতে শুরু করেন, পেঁয়াজ মে থোড়া দিক্কত হো গিয়া হামারে লিয়ে। মুঝে মালুম নেহি, কিউ আপনে পেঁয়াজ বন্ধ কর দিয়া!
ম্যায়নে কুক কো বোল দিয়া, আব সে খানা মে পেঁয়াজ বন্ধ কারদো। (পেঁয়াজ নিয়ে একটু সমস্যায় পড়ে গেছি আমরা। আমি জানি না কেন আপনারা পেঁয়াজ বন্ধ করে দিলেন।

আমি রাঁধুনিকে বলে দিয়েছি, এখন থেকে রান্নায় পেঁয়াজ বন্ধ করে দাও।) অনুষ্ঠানে উপস্থিত দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তৃতার সাড়া দেন হাসি আর করতালিতে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত আগে থেকে নোটিশ দিলে বাংলাদেশ অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ কেনার ব্যবস্থা করতে পারত। ভবিষ্যতে এমন কিছু করলে আগে জানালে ভালো হয়।

গত ১০ বছরে বাংলাদেশের ব্যাপক অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশকে বিশ্বের দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতিগুলোর অন্যতম দেশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের তৈরি পোশাক রফতানিতে দ্বিতীয়, অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনে তৃতীয়, মিঠাপানির মৎস্য উৎপাদনে চতুর্থ, চাল উৎপাদনে চতুর্থ এবং রেমিটেন্স অর্জনে অষ্টম বৃহত্তম অবস্থানে রয়েছে।

গত এক দশকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাফল্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, গত ১০ বছরে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি গড়ে ৭ শতাংশ থেকে গত বছরে ৮.১ শতাংশে পৌঁছেছে এবং আশা করা হচ্ছে চলতি অর্থবছরে তা ৮.৩ শতাংশ দাঁড়াবে।

তিনি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে রাজনৈতিক কূটনীতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ভারতের শিল্প ও রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়াল, বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, ভারতের কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) সভাপতি বিক্রম শ্রীকান্ত কিরলসকার, ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি সন্দীপ সোমনি, অ্যাসোসিয়েটেড চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অব ইন্ডিয়ার (এএসএসওসিএইচএএম) সভাপতি বালকৃষ্ণ গোয়েঙ্কা। অনুষ্ঠানে ‘প্রতিশ্রুতিশীল বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি ভিডিও উপস্থাপন করা হয়।

ভারতের শিল্প ও রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়াল বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত এখন সবচেয়ে দৃঢ় সম্পর্ক উপভোগ করছে। তিনি সুসম্পর্কের এই সুবিধা গ্রহণ করে দুই দেশের মানুষের উন্নতির জন্য অর্থনীতি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য খাতকে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। -বাসস

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul