adimage

২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বিকাল ১২:৫৮, শনিবার

‘ফল বাতিল করে শতাধিক কেন্দ্রে ফের ভোট চান মঞ্জু’

আপডেট  07:01 PM, মে ১৫ ২০১৮   Posted in : রাজনীতি    

‘ফলবাতিলকরেশতাধিককেন্দ্রেফেরভোটচানমঞ্জু’

খুলনা, ১৬ মে : খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতির’ অভিযোগ এনে একশরও বেশি কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করে নতুন করে ভোট নেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে খুলনা সিটি নির্বাচনে জাল ভোটের প্রবণতা বাড়ে বলে অভিযোগ উঠে। নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের নুরানি বহুমুখী মাদ্রাসা কেন্দ্রে অনেক জাল ভোট পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

একটি কেন্দ্রে কিছু যুবক প্রকাশ্যে সীল মারছে এমন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে সরকার। ভিডিওটিতে দেখা যায়, খুলনা নির্বাচনের একটি কেন্দ্রে প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে সীল মেরেছে কিছু যুবক।

দেখা যায়, যুবকরা প্রথমে কেন্দ্রের মূল দরজা বন্ধ করে প্রিসাইডিং অফিসারকে জিম্মি করে, তারপর গণহারে নৌকা প্রতীকে সিল মারতে থাকে।

ভিডিওতে দেখা যায়, এসময় এক যুবক সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলছে, ‘কথা কইস না শুধু সিল মার। এখন ভিডিও করিস না পরে কর। কাজ শেষ করে কর!’

অভিযোগ এসেছে, খুলনা সিটি নির্বাচনে অনেক কেন্দ্রেই জাল ভোটের প্রবণতা থাকলেও নির্বাচন কমিশন আর সরকারি দল বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করছে।

এদিকে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে জাল ভোটের প্রবণতা বাড়ে বলে অভিযোগ উঠেছে। নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের নুরানি বহুমুখী মাদ্রাসা কেন্দ্রে অনেক জাল ভোট পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানে স্থানীয় নৌকা–সমর্থিত প্রভাবশালী ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষণ দলের এক সদস্যকে অপদস্থ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কেন্দ্রটিতে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, এক ব্যক্তি তার দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে ভোটকেন্দ্র থেকে বের হচ্ছেন। বাবা-ছেলের দুজনের হাতের আঙুলে ভোট দেওয়ার সময় লাগানো অমোচনীয় কালি দেখে এক সাংবাদিক তাদের অনুসরণ করেন। একপর্যায়ে ভোট দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আমার ছেলেও ভোট দিয়েছে।’

দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলেটি বলে, নৌকায় ভোট দিয়েছি। টিপু আঙ্কেলকে ভোট দিয়েছি (আওয়ামী লীগের স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আলী আকবর টিপু, প্রতীক ঠেলাগাড়ি)।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার পর নগরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডে প্লাটিনাম উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনীত ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদের সঙ্গে বিদ্রোহী দুই প্রার্থীর মধ্যে হাঙ্গামা দেখা যায়। একপর্যায়ে সিবিএ সভাপতি কাওসার আলী মৃধাকে পুলিশ মারধর করে। এ ঘটনায় কিছু সময় ওই কেন্দ্রে ভোট বন্ধ থাকে। বেলা একটার পর আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক সেখানে যান। তিনি ওই কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

তালুকদার আবদুল খালেক কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসার পরপরই প্লাটিনাম উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ অংশে কর্তব্যরত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শেখ আবু মো. মুশফেকুল মোর্শেদের উপস্থিতিতে দুটি বুথে আট-দশ জন নৌকা–সমর্থিত কর্মীকে জাল ভোট দিতে দেখা যায়। কয়েকজন সাংবাদিক জানালা দিয়ে এ দৃশ্য দেখলে ওই প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সরিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমাদের কিছু রেসট্রিকশন আছে।’

কেন্দ্রটির অধিকাংশ বুথেই ধানের শীষের পোলিং এজেন্ট ছিল না। আওয়ামী লীগ–সমর্থিত কর্মীরা বেলা সোয়া একটার দিকে প্লাটিনাম উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উত্তর অংশ থেকে ধানের শীষের পোলিং এজেন্ট শিল্পী নামের এক নারীকে হুমকি-ধমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সুমন সরকার বলেন, ‘আমি শুনেছি পোলিং এজেন্ট চলে গেছেন।’

মঙ্গলবার বেলা দুইটার দিকে খুলনা পিটিআই কেন্দ্রে সরেজমিনে দেখা যায়, সাদিয়া পারভীন নামের একজন ভোটার ভোট দিতে গিয়ে তিনি ভোট দিতে পারেননি। তিনি নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বানিয়া খামার এলাকার বাসিন্দা। তার ভোট দেওয়ার কথা ছিল, খুলনা পিটিআই কেন্দ্রের পরীক্ষণ ভবনে।

সাদিয়া পারভীন বলেন, আমি ভোট দিতে গেলে ওনারা বলেন, ভোট হয়ে গেছে। অন্যখানে যান।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খুলনায় দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই দাবি করেন ধানের শীষের প্রার্থী।

মঞ্জু বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যে ফলাফল আসছে এটা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না। খুলনাবাসী ভোট প্রয়োগ করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই সুযোগ ধুলিস্যাৎ হয়ে গেছে আওয়ামী লীগের ভোট ডাকাতির কাছে।’ সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত নগরীর ২৮৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হয়। দিনভর বিভিন্ন কেন্দ্রে জালভোটসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এসেছে গণমাধ্যমে।

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul