adimage

১৪ ডিসেম্বর ২০১৮
সকাল ০৯:২৮, শুক্রবার

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মুখে খালেদা জিয়ার মুক্তি

আপডেট  03:06 AM, মার্চ ১৪ ২০১৮   Posted in : রাজনীতি    

দীর্ঘআইনিপ্রক্রিয়ারমুখেখালেদাজিয়ারমুক্তি

ঢাকা, ১৪ মার্চ : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেননি আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। এদিকে হাইকোর্টের জামিন আদেশটি গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে পৌঁছেছে। কিন্তু ততক্ষণে এদিনের দাপ্তরিক কর্মঘণ্টা শেষ হয়ে যাওয়ায় সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর জামিননামা দাখিল করতে পারেননি তার আইনজীবীরা। আজ বুধবার দাখিল করবেন বলে জানিয়েছেন তারা। অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আগামী ২৮ ও ২৯ মার্চ আদালতে হাজির করতে হাজিরা পরোয়ানা (প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট) ইস্যু করেছেন আদালত। খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার যে কারাগারে বন্দি, গতকালই সেই কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে ওই পরোয়ানাটি পাঠানো হয়।

এর আগে সোমবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্ট জামিন দেন। মঙ্গলবার সকালে ওই জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে। পরে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী গতকাল দুপুর সোয়া দুইটায় এ আবেদন দুটি শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠান। আজ বুধবার এ দুটি আবেদনের ওপর পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি হবে।

এদিকে এ মামলায় খালেদা জিয়াকে দেওয়া চার মাসের জামিন আদেশের কপিতে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে স্বাক্ষর করেন জামিন প্রদানকারী হাইকোর্টের দুই বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিম। এর পর আদেশের কপিটি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে সিএমএম আদালতে নিয়ে যান হাইকোর্ট বিভাগের আদান-প্রদান শাখার অফিস সহায়ক তাজউদ্দিন আহমেদ। তিনি সাইকেলে চেপে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে সিএমএম আদালতে পৌঁছান এবং সিএমএম আদালতের জুডিশিয়াল পেশকার ওমর ফারুক চৌধুরী আদেশটি গ্রহণ করেন। বিচারিক আদালত থেকে জামিন আদেশটি কারাগারে পাঠানো হবে। এর পর এ মামলায় কারামুক্তি পাওয়ার যোগ্য হবেন খালেদা জিয়া। তবে এর আগেই আপিল বিভাগে যদি তার জামিন স্থগিত হয়ে যায় অথবা জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে করা আবেদন দুটির নিষ্পত্তি না হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রেও খালেদা জিয়ার এ মামলায় কারামুক্তি আটকে যেতে পারে। উপরন্তু কারামুক্তির জন্য কুমিল্লায় পেট্রলবোমা মেরে ৮ জনকে হত্যার মামলায়ও জামিন পেতে হবে খালেদা জিয়াকে। কারণ গত সোমবার কুমিল্লার একটি আদালত পেট্রলবোমা মেরে ৮ জনকে হত্যার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে হাজিরা পরোয়ানা জারি করেছেন।

জানা গেছে, গুলশান থানা পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ৫নং আমলি আদালতের বিচারক মুস্তাইন বিল্লাহ সোমবার বিকালে এ প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেন। এখন এ মামলায় কারামুক্তির জন্য খালেদা জিয়াকে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন চাইতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন আবেদন নাকচ হলে তাকে কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আবেদন জানাতে হবে। সেখানেও জামিন না পেলে খালেদা জিয়াকে এ মামলায়ও জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করতে হবে। এর পর আপিল বিভাগেও যাওয়ার প্রয়োজন হবে।

পেট্রলবোমায় ৮ জনের পুড়ে মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে কুমিল্লার দুটি মামলা ছাড়াও যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার একটি মানহানির মামলা, ভুয়া জন্মদিন পালন করে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সুনাম নষ্টের একটি মামলা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের একটি মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বিএনপির শীর্ষনেত্রীর আইনজীবীদের শঙ্কা- এসব মামলায়ও কুমিল্লার মামলার মতো গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তার কারামুক্তি বেশ বিলম্ব হবে। কারণ সব মামলাতে একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খালেদা জিয়াকে জামিন নিতে হবে। সে কারণে তার কারামুক্তির বিষয়টি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে যেতে পারে।

এ ছাড়া গতকালই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেছে। এ মামলায় তাকে আগামী ২৮ মার্চ হাজির করার দিন ধার্য করা হয়েছে। এখন এ মামলায়ও কারামুক্তির জন্য তার প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট প্রত্যাহারের আবেদন জানাতে হবে। প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট প্রত্যাহার হলে সেই আদেশের কপি কারাগারে পৌঁছতে হবে। আর প্রত্যেকটি মামলার প্রক্রিয়া শেষ করে কারামুক্তি পেতে কতদিন লাগবে, তা কেউই আগাম বলতে পারছেন না।

অন্যদিকে সোমবার চার মাসের জামিন প্রদানের পাশাপাশি হাইকোর্ট চার মাসের মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার আপিল শুনানির জন্য পেপারবুক (যাবতীয় নথি) প্রস্তুত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সরকার ও দুদক এ মামলার আপিল শুনানির উদ্যোগ নেবে। সে ক্ষেত্রে আগামী ছয় মাসের মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রস্ট মামলার আপিলেরও নিষ্পত্তি হতে পারে। ইতোমধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল এ মামলার সাজা বহাল থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। আর আপিল শুনানি শেষে সাজা বহাল থাকলে এবং অন্য মামলাগুলোর প্রক্রিয়া শেষ করতে ছয় মাসের বেশি সময় লেগে গেলে খালেদা জিয়া নির্বাচনের আগে কারামুক্তি নাও পেতে পারেন- এমন আশঙ্কাও করছেন অনেকেই।

‘জামিন ঠেকাতে সরকার-দুদক একাকার’

খালেদা জিয়ার জামিন ঠেকাতে সরকার ও দুদক একাকার হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, তারা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। খালেদা জিয়াকে দীর্ঘসময় কারাগারে রাখার জন্যই জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে। গতকাল সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সভাপতি কক্ষের সামনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল যা বলেছেন তার সবই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য। বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে যেভাবে তার শুনানি করার কথা সে রকম তিনি করেননি। আমাদের পক্ষ থেকে আদালতকে বলা হয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেল এভাবে কথা বলতে পারেন না।

তিনি আরও বলেন, আমরা আদালতকে বলেছি- খালেদা জিয়া একটি টাকাও আত্মসাৎ করেননি। ৬ কোটি টাকা এখনো ব্যাংকে জমা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সত্য নয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় জড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি সরকার কী করে।’

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদ- প্রদান করেন। এ ছাড়া যে পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে, এর সমপরিমাণ অর্থও সবাইকে দ- দেন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালতের এ রায়ের অনুলিপি প্রকাশ হয়। পরদিন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা হাইকোর্টে আপিল করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি আপিলটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে রায়ের নথি তলব করেন হাইকোর্ট এবং অর্থদ-ের আদেশ স্থগিত করেন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শেষ হয়। বিচারিক আদালতের নথি আসার পর আদেশ দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়। গত রবিবার সকালে বিচারিক আদালত হাইকোর্টে নথি পাঠান। সোমবার নথি দেখে হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুর করেন। এর পর গতকাল মঙ্গলবার সকালে ওই জামিন স্থগিত চেয়ে দুদক ও সরকারের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি আবেদন দায়ের করা হয় আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে। সূত্র: আমাদের সময়

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul