adimage

২৩ মে ২০১৮
বিকাল ০৩:০৫, বুধবার

পর্যটনে নতুন মাত্রা: চরফ্যাশনে 'বাংলার আইফেল টাওয়ার'

আপডেট  04:00 AM, জানুয়ারী ১৪ ২০১৮   Posted in : বরিশাল    

পর্যটনেনতুনমাত্রা:চরফ্যাশনে'বাংলারআইফেলটাওয়ার'

ভোলা, ১৪ জানুয়ারি : ভোলার চরফ্যাশনে আইফেল টাওয়ারের আদলে নির্মিত উপমহাদেশের সর্বোচ্চ ওয়াচ টাওয়ারটি এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৯ তলাবিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন এ টাওয়ারটি পর্যটকদের দারুণভাবে আকর্ষণ করবে বলে উদ্যোক্তারা আশা করছেন। টাওয়ারটিতে ক্যাপসুল লিফটের ব্যবস্থা রয়েছে। থাকছে উচ্চ ক্ষমতার বাইনোকুলার, যাতে ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকার নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা যাবে। ২১৫ ফুট উচ্চতার এ ওয়াচ টাওয়ারে দাঁড়ালেই চোখে পড়ে তেঁতুলিয়া নদীর সুনীল-শুভ্র জলাধার, পূর্বে মেঘনার উথাল-পাথাল ঢেউ, দক্ষিণে চর কুকরী-মুকরীসহ বঙ্গোপসাগরের বিরাট অংশ।

পর্যটকদের সুবিধার্থে টাওয়ারসংলগ্ন এলাকায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক বিলাসবহুল রেস্ট হাউসও নির্মাণ করা হয়েছে।

পর্যটকদের সুবিধার্থে ১৮টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম, সুইমিংপুল ও হেলিপ্যাডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভ্রমণপিপাসুদের কাছে জনপ্রিয় চর কুকরী-মুকরী, ঢালচরসহ আশপাশের বনাঞ্চলে ইকোপার্ক গড়ে তোলা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মঙ্গলবার টাওয়ারটি উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদসহ দক্ষিণাঞ্চলের এমপিরা উপস্থিত থাকবেন।

দ্বীপের রানী বলে খ্যাত ভোলার সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা চরফ্যাশনে নির্মিত উপমহাদেশের সর্বোচ্চ এই ওয়াচ টাওয়ার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে চরফ্যাশন পৌরসভা বাস্তবায়ন করেছে। টাওয়ারটির ডিজাইন করেছেন স্থপতি কামরুজ্জামান লিটন। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে এর কাজ শুরু হয়। চরফ্যাশন পৌর প্রকৌশলী মোহাম্মদ  আলী জানান, ৭৫ ফুট মাটির নিচ থেকে ৭০টি পাথর ঢালাই পাইলিং ফাউন্ডেশনের ওপর নির্মিত টাওয়ারটি সম্পূর্ণ স্টিলের তৈরি। ৮ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় টাওয়ারের চূড়ায় ওঠার জন্য সিঁড়ির পাশাপাশি রয়েছে ১৬ জন ধারণ ক্ষমতার অত্যাধুনিক ক্যাপসুল লিফট। এক হাজার বর্গফুটের ১৭তম তলায় বিনোদনের নানা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও রয়েছে বিশ্রাম, প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবারের সুব্যবস্থা। পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী এবং স্থানীয় এমপি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের সহায়তায় এ টাওয়ারটি নির্মিত হয়েছে। উপমন্ত্রীর নামেই টাওয়ারটির নামকরণ হয়েছে 'জ্যাকব টাওয়ার'।

এ বিষয়ে আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এ প্রতিবেদককে বলেন, বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে জেগে ওঠা চরাঞ্চল, বিশেষ করে চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলাজুড়ে পর্যটন শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। চরফ্যাশনের দক্ষিণে সাগর মোহনার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চর কুকরী-মুকরী, ঢালচর, তারুয়া সৈকত প্রকৃতির এক অপার সৃষ্টি। কয়েক বছরে ওই স্পটগুলো ভ্রমণপিপাসুদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা আসছেন। ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে রয়েছে হরিণ, বানর, বনমোরগসহ নানা বন্যপ্রাণী। কিন্তু পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো কোনো স্থাপনা গড়ে ওঠেনি এ অঞ্চলে। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা অপার সৌন্দর্যের পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে এই টাওয়ারটি নির্মাণ করা হয়েছে। এ টাওয়ার পর্যটনে বাংলাদেশে নতুন দিক উন্মোচন করবে। তিনি বলেন, এ টাওয়ারটি দেশের পর্যটন শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করার পাশাপাশি চরফ্যাশনকে বহির্বিশ্বে আলাদা পরিচিতি এনে দেবে।

স্থানীয় শিক্ষক আশরাফ আলী জানান, সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা চরফ্যাশনের প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগাতে পারলে শুধু বাংলাদেশ নয়, বিদেশ থেকেও পর্যটক আসবে। এ টাওয়ার বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে বিশ্বের কাছে নতুন পরিচিত দেবে।

স্থানীয় তরুণ শরিফুল ইসলাম জানান, বঙ্গোপসাগরের খুব কাছে অবস্থিত চরাঞ্চলের উপজেলা চরফ্যাশন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রশস্ত বিচ আর নীরব শান্ত পরিবেশের জন্য এরই মধ্যে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে জ্যাকব টাওয়ার। এ টাওয়ারের পাশেই মনপুরা। জ্যাকব টাওয়ার বদলে দিচ্ছে ভোলার রূপ। -সমকাল

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul