adimage

২৭ Jun ২০১৯
বিকাল ০৪:৪১, বৃহস্পতিবার

মালয়েশিয়ায় গ্রেফতার আতঙ্কে প্রবাসীরা

আপডেট  05:29 AM, সেপ্টেম্বর ০৩ ২০১৮   Posted in : প্রবাস বাংলা    

মালয়েশিয়ায়গ্রেফতারআতঙ্কেপ্রবাসীরা

ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর : থ্রি-প্লাস ওয়ানের মাধ্যমে দেশে ফেরার সুযোগ শেষ হওয়ার পরই শুক্রবার থেকে মালয়েশিয়াজুড়ে অভিযান শুরু করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হওয়ায় বাংলাদেশীরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকেই।

শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া সাঁড়াশি এই অভিযানে কয়েকশ’ অবৈধ শ্রমিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।  ইতিমধ্যে ৫১০ জন অবৈধ বিদেশি শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ।  এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশী রয়েছেন। যারা অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছিলেন। অবৈধ অভিবাসী বিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় একজন নারী ইমিগ্রেশন অফিসার আহত হয়েছেন জানা গেছে।

সাঁড়াশি অভিযানের কারণে মালয়েশিয়ার বাঙালি অধ্যুষিত কোতারায়া এলাকা এখন ফাঁকা। এছাড়াও বাসগুলোতেও আর দেখা মিলছে না বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের। অভিযানের ফলে শ্রমিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন একাধিক মালিক। অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, ভিসা থাকা সত্ত্বেও গ্রেফতার করা হচ্ছে।

অন্যদিকে এজেন্টের নামে ভিসা করে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করলেও  অভিবাসন বিভাগ বলছে, অনুমতি ছাড়া অন্য জায়গায় কাজ করলেই তাদেরকে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত করা হবে। ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রধান মুস্তাফার আলী সাংবাদিকদের বলেন, সম্ভাব্য সব জায়গায় আমাদের অভিযান পরিচালিত হবে। যতক্ষণ না পর্যন্ত তাদের আইনের আওতায় আনতে পারছি আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধ শ্রমিক এবং মালিকদের সাথে কোনো আপস করা হবে না।

বিভিন্ন সময়ে অবৈধ অভিবাসী ধরা পড়লেও এবারের অভিযানের বেলায় রয়েছে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। সর্বোচ্চ ৫০ হাজার রিঙ্গিতসহ জেল জরিমানার বিধান রয়েছে। তিন বাহিনীর সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় অবৈধ অভিবাসী মুক্ত করা হবে বলে জানান ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রধান।

বিদেশি নাগরিক দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান আরো জোরদার করা হবে। এছাড়া কাজের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও কাজ করলে তাকেও অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হবে। আর অবৈধ হিসেবে ধরা পড়লেই ব্ল্যাকলিস্টসহ জেল জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।

দেশটিতে প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশী বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন। যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই তারা সংগত কারণেই আতঙ্কিত। তবে দূতাবাসের তরফে সরকারকে সময় বাড়ানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। ২০১৪ থেকে গত ২৮শে আগস্ট পর্যন্ত ৮ লাখেরও বেশি অবৈধ অভিভাসী সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিয়েছেন। গত ৮ মাসে ৯৭১৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

অভিভাসন বিষয়ক মহাপরিচালক মুস্তাফার আলী জানিয়েছেন, এই সময়ে ২৯ হাজারেরও বেশি অবৈধ শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অবৈধ শ্রমিককে কাজ দেয়ার অভিযোগে ৮৮০ জন চাকরিদাতাকে জেলে নেয়া হয়েছে। এই অভিযান শুরু হওয়ার আগে মালয়েশিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মহাথির মোহাম্মদ বিশেষ এক সিদ্ধান্তের অধীনে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে নতুন করে শ্রমিক নেয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন। সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। আধুনিককালের ক্রীতদাস হিসেবে যারা শ্রমিকদের গণ্য করছে তারাই চলতি অভিযানের মূল টার্গেট।

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul