adimage

২৪ জানুয়ারী ২০১৮
বিকাল ০১:৪২, বুধবার

উড়ে আসে পরিযায়ী পাখি

আপডেট  09:45 AM, জানুয়ারী ১৪ ২০১৮   Posted in : ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস     

উড়েআসেপরিযায়ীপাখি

ঢাকা ১৪ জানুয়ারীপরিযায়ী পাখি বলতে মোটা দাগে বাংলার মানুষ জলাশয়ে নামা পাখিগুলোকেই বোঝে। আর সে কারণেই বাংলাদেশের আনাচ-কানাচে ছড়িয়ে থাকা জলাশয়ে উৎসুক দর্শকদের ভিড় থাকে পাখি দেখার আশায়। পাখির জন্য খ্যাত কয়েকটি এলাকা সম্পর্কে জানাচ্ছেন আল মারুফ রাসেল

 

টাঙ্গুয়ার হাওর

পরিষ্কার টলটলে পানিতে পরিযায়ী পাখির আনাগোনা, পেছনে ভারতের পাহাড়ি এলাকা-যেকোনো অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীর মনে ঝড় তুলতে যথেষ্ট। সুনামগঞ্জ শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার পশ্চিমের এই হাওর প্রায় ৯ হাজার ৫৭৩ হেক্টরে এক জলজ সাম্রাজ্য। পরিযায়ী পাখির বেশ বড় অংশ এখানে গোটা শীত কাটিয়ে যায়। বিপন্ন পাখি পলাশের কুরা ঈগল প্রজনন মৌসুমে হাওরের বড় বড় গাছে বাসা বাঁধে। মহাবিপন্ন ফুলুরি হাঁস ও বেয়ারের ভূতি হাঁসও আসে। হাওরে এ পর্যন্ত ১৬০ রকমের পাখি দেখা গেছে। ল্যাঞ্জা হাঁস, গিরিয়া হাঁস, পাতারি হাঁস, খুন্তে হাঁস, পাতি ভূতি হাঁস, মরচেরং ভূতি হাঁস, টিকি হাঁস, বড় সরালি ও কুট পাখির বেশ বড় ঝাঁক আসে। নলখাগড়া-ঝোপঝাড় বিভিন্ন প্রজাতির ফুটকি, লালগলা ফিদ্দা ও ধলালেজ চুনিকণ্ঠির মতো ছোট পরিযায়ী পাখির ভালো আশ্রয়স্থল।

যেতে চাইলে

ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ যেতে ছয় ঘণ্টা লাগে। প্রতি ঘণ্টায় সায়েদাবাদ থেকে সুনামগঞ্জের বাস ছাড়ে। ভাড়া ৫৫০-৬০০ টাকা। সুনামগঞ্জের সাহেববাড়ি ঘাট থেকে নৌকা নিয়ে তাহিরপুর। এই ৩৫ কিলোমিটার পাড়ি দিতে প্রায় ছয়-সাত ঘণ্টা লাগবে। তারপর নৌকা ভাড়া করে টাঙ্গুয়ার হাওরে। সাহেববাড়ি ঘাট থেকে নৌকায় সুরমা নদী পেরিয়ে মণিপুর ঘাটে গিয়ে মোটরসাইকেলে শ্রীপুর বাজারে গিয়েও (দুই ঘণ্টা, ভাড়া ৪০০-৫০০ টাকা) ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া করতে পারেন। ছোট নৌকার ভাড়া দিনপ্রতি ১২০০-১৫০০ টাকা, বড় নৌকার ভাড়া দিনপ্রতি চার হাজার টাকা।

থাকা-খাওয়া

সুনামগঞ্জ শহরে থাকার জন্য আল হেলাল, হোটেল প্যালেস, হোটেল নূরানি, হোটেল উমর আছে। সিএনআরএস (এনজিও) গেস্ট হাউসেও উঠতে পারেন। সুনামগঞ্জ শহরে মাঝারি মানের কিছু খাওয়ার রেস্টুরেন্ট রয়েছে। তবে টাঙ্গুয়ায় যেতে হলে নৌকাতেই থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

 

বাইক্কা বিল অভয়াশ্রম (হাইল হাওর)

হাইল হাওরে মাছের সংখ্যা বাড়াতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। সে কারণে মানুষের আনাগোনা কম। ফলে এই নিরিবিলি জলাভূমিতে পাখির মেলা। হাইল হাওরের এই অংশ ‘বাইক্কা বিল’ নামে পরিচিত। এত ছোট জায়গায় একসঙ্গে এত প্রজাতির পাখি অন্য কোথাও খুঁজে পাওয়া কঠিন। এই বিলটি শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ছয় কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। শীতে প্রচুর পাখি আসে। দেশি ছোট সরালি, কালিম তো আসেই, সাইবেরিয়া থেকে আসা বেশ কয়েক ধরনের হাঁস ও সৈকতপাখিও ঠাঁই নেয়। বাইক্কা বিলের অন্যতম আকর্ষণ পুরো বিশ্বে সংকটাপন্ন ও বাংলাদেশে মহাবিপন্ন ‘কুরা’ বা ‘পালাসির কুরা ঈগল’। বিলে মরচেরং ভূতি হাঁস, পালাসির কুরা ঈগল, বড় চিত্রা ঈগল, গয়ার, বড় ঠোঁট ফুটকি, মেছোবিড়ালও আছে।

যেতে চাইলে

ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গলের বাস আর ট্রেনে যেতে পারেন। সেখান থেকে সিএনজি অটোরিকশায় বাইক্কা বিল এক ঘণ্টার পথ। যাওয়া-আসা ঠিক করে নেওয়াই ভালো, কারণ বাইক্কা থেকে ফেরার পথে কিছু পাবেন না। ভাড়া নির্ভর করে কতক্ষণ সেখানে থাকবেন তার ওপর। সকাল থেকে বিকেলের জন্য ভাড়া ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

থাকা-খাওয়া

শ্রীমঙ্গলে থাকার জায়গার অভাব নেই। টি টাউন গেস্ট হাউস, ইউনাইটেড গেস্ট হাউস, সন্ধ্যা হোটেল, গ্রিনভিউ রেস্ট হাউস বেশ ভালো। ডাবল বেড ৮০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা। খাওয়ার জন্য কুটুমবাড়ি, শ্বশুরবাড়ি, আড্ডা রেস্টুরেন্ট আছে। বাইক্কা বিলের আশপাশে খাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে হালকা খাবার, পানি ব্যাগে ভরে নেওয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

 

হাকালুকি হাওর

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হাওরের নাম হাকালুকি। মৌলভীবাজার শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে হাকালুকি। এই হাওর সিলেট ও মৌলবীবাজার জেলার পাঁচটি উপজেলায় ১৮ হাজার ৩৮৩ হেক্টর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। শীতে এই হাওর পরিণত হয় পরিযায়ী হাঁসের আবাসভূমিতে। এ হাওর বর্ষায় মিঠা পানির সমুদ্র হয়ে ওঠে আর শীতে পরিণত হয় ২৩৮টির মতো ছোট ছোট বিলে। ছোটখাটো পাখির জরিপ এখনো সম্পূর্ণভাবে করা না গেলেও ধরে নেওয়া হয় এখানে পাখির প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ১২০। এর মধ্যে আবার ৭৬টিই জলার পাখি। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-মেটে রাজহাঁস, চকাচকি, ফুলুরি হাঁস, ল্যাঞ্জা হাঁস, গিরিয়া হাঁস, খুন্তে হাঁস, মরচেরং ভূতি হাঁস, বড় সরালি, কালিম, কুট। এখানে আরো দেখা মিলবে বিশ্বে মহাবিপন্ন পাখি পাতি ভূতি হাঁসও।

যেতে চাইলে

সায়েদাবাদ থেকে প্রতি ঘণ্টায়ই বিভিন্ন বাস ছেড়ে যায় মৌলভীবাজারের উদ্দেশে। ভাড়া ৪৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা। মৌলভীবাজার থেকে গাড়ি বা সিএনজি নিয়ে যাওয়া যায় হাকালুকিতে। আবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে উঠতে পারেন ট্রেনে। কুলাউড়া পর্যন্ত যেতে ভাড়া পড়বে ৩৫০-৪০০ টাকার মতো। পাঁচ ঘণ্টার এই যাত্রা শেষে রিকশা বা সিএনজি নিয়ে যেতে পারেন হাকালুকিতে।

থাকা-খাওয়া

হাওরের কাছেপিঠে থাকা-খাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। কুলাউড়া সিআরপি গেস্ট হাউস থাকার জন্য বেশ ভালো। মৌলভীবাজারে হোটেল সোনারগাঁও, হোটেল শেরাটন প্লাজা, হোটেল হেলাল থাকার জন্য ভালো। ভাড়া ৩৫০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা। কুলাউড়া আর মৌলভীবাজারে খাওয়ার বেশ ভালো রেস্টুরেন্ট রয়েছে।

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

পরিযায়ী পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম আছে। শীতের শুরু থেকেই পরিযায়ী পাখিরা ক্যাম্পাসের জলাশয়ে আসতে শুরু করে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লাল শাপলায় ভরা জলাশয়ে সারা বছরই দেশি ছোট সরালি, জলপিপি, নেউপিপি পাখি থাকেই। শীতে বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে থাকে কিছু পরিযায়ী পাখি। জাহাঙ্গীরনগরে বড় সরালি, গিরিয়া হাঁস, পাতারি হাঁস, ভূতি হাঁসের মতো পাখি দেখার রেকর্ড রয়েছে। রয়েছে বেশ কয়েক জাতের সৈকত পাখিও। আর দেশীয় কিছু প্রজাতি যেমন-ছোট সরালি, বালি হাঁসও রয়েছে। জাহাঙ্গীরনগরের গাছপালা আর ঝোপেও প্রচুর পরিযায়ী ছোট পাখি এসে বসত গড়ে শীতকালে।

যেতে চাইলে

ঢাকা থেকে দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটারের মতো।

ঢাকার গুলিস্তান, ফার্মগেট, মিরপুরের টেকনিক্যাল মোড় থেকে সহজেই বাস পাওয়া যায়। ভাড়া পড়বে ৩০ থেকে ৫০ টাকা।

থাকা-খাওয়া

কম টাকায় পেট ভরে খেতে হলে জাহাঙ্গীরনগরের বটতলায় যাওয়াই ভালো। জনপ্রতি ৫০ টাকা হলেই পেটপুরে খাওয়া যাবে সেখানে।


সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul