adimage

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সকাল ১০:৪৩, বুধবার

সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী বিল সংসদে পাস

আপডেট  03:22 PM, Jul ০৮ ২০১৮   Posted in : জাতীয়    

সংবিধানেরসপ্তদশসংশোধনীবিলসংসদেপাস

ঢাকা, ৮ জুলাই : নারী আসন আরো ২৫ বছর সংরক্ষিত রাখার বিধান রেখে সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী বিল-২০১৮ সংসদে পাস।

রবিবার বিকেলে সংসদে কণ্ঠভোটে এই বিল পাস হয়। সংসদ অধিবেশনের কার্যসূচি থেকে জানা গেছে, গত এপ্রিলের প্রথমার্ধে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ‘সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) বিল-২০১৮’ সংসদে উত্থাপন করেন।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশকৃত আকারে বিলটি পাস করার প্রস্তাব করেন। বিলের ওপর প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা শেষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিরোধীদলীয় সদস্যরা বিলটিকে সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করলেও আইনমন্ত্রী তা নাকচ করে দেন।

এছাড়া ২৫ বছরের জন্য বিলটি পাস করার বিরোধিতা করেন বিরোধী দলের সদস্যরা। পরে প্রক্রিয়া শেষে সংবিধান সংশোধন করা সংক্রান্ত বিলটি পাস হয়। এসময় সংসদের সভাপতিত্বে ছিলেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদসহ অধিকাংশ এমপি সংসদে উপস্থিত ছিলেন।

এরআগে পর্যায়ক্রমে সংবিধানের ৬৫(৩) অনুচ্ছেদ আরও চারবার সংশোধনীর মাধ্যমে নারী আসনের মেয়াদ ও সংখ্যা বাড়ানো হয়। চলতি সংসদের মেয়াদান্তে এই বিধান অব্যাহত রাখতে এই সংশোধনী বিল পাস করা হয়।

বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যমান নারী আসনের মেয়াদ শেষ হবে। ফলে সপ্তদশ সংবিধান সংশোধনী বিল পাস হওয়ায় পরবর্তী সংসদ থেকে তার মেয়াদ ২৫ বছর হবে। বিলের সংশোধনীর পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে ২৯৮টি এবং বিলের বিপক্ষে কোনো ‘না’ ভোট পড়েনি। ফলে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশকৃত আকারে বিলটি পাস হয়।

পরে তা পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।

এর আগে অষ্টম জাতীয় সংসদে ২০০৪ সালে সংবিধান সংশোধন করে সংরক্ষিত নারী সদস্যের ৪৫টি আসন সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আনুপাতিক হারে বণ্টনের ব্যবস্থা করা হয়।

তখন এ আইনের মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয় পরবর্তী সংসদের অর্থাৎ, নবম সংসদের প্রথম বৈঠক থেকে দশ বছর।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি। সেই হিসেবে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের মেয়াদ আছে ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রয়েছে।

২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০ করা হয়। সে অনুযায়ী ৩৫০ জন সংসদ সদস্য নিয়ে গঠিত বর্তমান জাতীয় সংসদে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে ৩০০ জন এবং সংসদের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে ৫০ জন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন।

বাংলাদেশের সংবিধান
তবে পঞ্চদশ সংশোধনীতে ওই বিধির মেয়াদ না বাড়ানোয় ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারির পর তার আর কার্যকারিতা থাকবে না। এ কারণেই ওই বিধির মেয়াদ আরও ২৫ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয় সরকারের পক্ষ থেকে।

অবশ্য নারী নেত্রীরা বলে আসছেন, সংরক্ষিত আসনের মেয়াদ বাড়ানো হলে তা নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখবে না। এর বদলে স্থানীয় সরকারের মত সংসদেও নারী আসনে সরাসরি ভোট চান তারা।

সংবিধান সংশোধন করতে হলে সংসদ সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট লাগে। সংসদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের হাতে আছে ২৩২টি আসন।

সংবিধানের সর্বশেষ সংশোধন হয়েছিল ২০১৬ সালে। ওই সংশোধনে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে সর্বোচ্চ আদালত ওই সংশোধনী অবৈধ বলে রায় দেয়। ওই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল বিভাগে ইতোমধ্যে আবেদন করেছে সরকার।

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul