adimage

২৩ Jun ২০১৮
সকাল ০২:৫৩, শনিবার

অবশেষে নাবিলা সন্তান দাদির কোলে

আপডেট  03:08 AM, মার্চ ১৪ ২০১৮   Posted in : জাতীয়    

অবশেষেনাবিলাসন্তানদাদিরকোলে

ঢাকা, ১৪ মার্চ : ইনায়া ইমাম হিয়ার বয়স দুই বছর চার মাস। নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন তার মা শারমিন আক্তার নাবিলা ওরফে নাবিলা ফারহিন। তিনি ইউএস-বাংলার বিধ্বস্ত বিমানটির কেবিন ক্রু ছিলেন। এমন শোকের সময়ে ছোট্ট হিয়াকে যখন স্নেহের ছায়ায় রাখার কথা, ঠিক তখনই দুই পরিবার তাকে কাছে পেতে থানা পুলিশ শুরু করেছে। এ নিয়ে টানাপড়েন চলছে দাদি-নানির পরিবারে।

সোমবার নাবিলার মৃত্যুর সংবাদের পরপরই শিশুটিকে নিয়ে যান নানি নিলাদ জাহান। এতে উত্তরা পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ করেন দাদি বিবি হাজেরা। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার বিকেলে মিরপুর এলাকার একটি রেস্টুুরেন্ট থেকে হিয়াকে উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের উত্তরা বিভাগের ডিসি নাবিদ কামাল শৈবাল এ প্রতিবেদককে বলেন, দুই পরিবারকে সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সবার বক্তব্য নেওয়ার পর মনে হয়েছে, শিশুটিকে তার দাদির কাছে রাখা উচিত। এরপরও সমঝোতায় যেতে না পারলে তাকে নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে।

ক্রু নাবিলা স্বামী ইমাম হাসান ও একমাত্র সন্তান হিয়াকে নিয়ে উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের ২৪ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকতেন। একই বাসায় সাবলেট থাকতেন নাবিলার খালাতো বোন নুশরাত জাহান।

উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক (অপারেশন) কাজী নাসির উদ্দিন এ প্রতিবেদককে বলেন, নাবিলার বাসায় রিনা বেগম নামের একজন গৃহকর্মী ছিলেন। সোমবার সন্ধ্যায় ওই গৃহকর্মীর মাধ্যমে শিশু হিয়াকে নিয়ে নেয় নাবিলার খালাতো বোন নুশরাত। পরে তিনি নানি নিলাদ জাহানের কাছে হিয়াকে রেখে আসেন। তবে হিয়ার দাদি তার নাতনি চুরি হয়েছে বলে থানায় জিডি করলে পুলিশ তৎপর হয়। পরে গৃহকর্মী রিনাকে আটক করলে জানা যায়, ঘটনার নেপথ্যে দুই পরিবারের ঝামেলা রয়েছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, নাবিলার স্বামী ইমাম হাসান একটি মামলায় গত জানুয়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে নানি ও দাদিপক্ষ শিশুটির অভিভাবকত্ব দাবি করে বসে। এতে শুরু হয় টানাপড়েন।

অবশ্য নুশরাত জাহান পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, নাবিলা সব সময় বলতেন, তার কিছু হলে হিয়াকে যেন সে লালন করে। এ জন্যই তিনি হিয়াকে নিজের হেফাজতে নেন। পরে তাকে তার নানির কাছে দেওয়া হয়।

তবে হিয়ার দাদি বিবি হাজেরা এ প্রতিবেদককে বলেন, চার বছর আগে তার ছেলে নাবিলাকে নিজের পছন্দে বিয়ে করে। ছয় মাস পর তিনি এ বিয়ে মেনে নিলেও নাবিলার পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও তা মেনে নেওয়া হয়নি। হিয়ার জন্মের পরও তারা কেউ আসেনি। এখন নাবিলার মৃত্যুর পর নানা নাটক সাজিয়ে হিয়ার অভিভাবকত্ব চাইছে তারা।

বিবি হাজেরার দাবি, নাবিলার খালাতো বোন নুশরাত, নানি নিলাদ জাহান ষড়যন্ত্র করে গৃহকর্মীর মাধ্যমে হিয়াকে তাদের কাছে নিয়ে নেয়। এ জন্য তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন।
অবশ্য উত্তরা পশ্চিম থানায় হিয়ার নানি নিলাদ জাহান এ প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেন, তাদের সঙ্গে সব সময়ই নাবিলা ও জামাতা ইমামের যোগাযোগ ছিল। নাবিলা নিজেই বলে গেছে, হিয়াকে যেন তাদের কাছে রাখা হয়। বিমানে নাবিলার ডিউটির সময়ে নুশরাতই হিয়াকে লালনপালন করে আসছিলেন।

উত্তরা-পশ্চিম থানার ওসি আলী হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, নিহত নাবিলার মা নিলাদ জাহান অন্যত্র বিয়ে করেছেন। এ জন্য তার নতুন সংসার রয়েছে। হিয়াকে তিনি তার কাছে রাখার দাবি করলেও তার কাছে দেওয়া সম্ভব নয়। এটা তাকে বোঝানো হয়েছে।

স্বজনরা জানান, নাবিলা-ইমাম দম্পতি উত্তরায় থাকলেও নাবিলার মায়ের বাসা জুরাইন এলাকায়। তবে দ্বিতীয় বিয়ের পর তিনি পূর্ব গোড়ানে থাকেন। অন্যদিকে ইমামের মা হাজেরা থাকেন নাখালপাড়ায়। সূত্র: সমকাল

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul