adimage

১৭ অক্টোবর ২০১৮
বিকাল ০১:১১, বুধবার

রূপাকে ধর্ষণ ও হত্যা : ৪ জনের ফাঁসি

আপডেট  05:03 PM, ফেব্রুয়ারী ১২ ২০১৮   Posted in : জাতীয় ঢাকা    

রূপাকেধর্ষণওহত্যা:৪জনেরফাঁসি

টাঙ্গাইল, ১২ ফেব্রুয়ারি : টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় চারজনের বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে একজনের সাত বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া। এ সময় আদালতে মামলার আসামিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- বাসটির হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) এবং চালক হাবিবুর (৪৫)। এছাড়া সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) সাত বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জাকিয়া সুলতানা রুপা (২৬) সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার আসানবাড়ি গ্রামের মৃত জেলহক উদ্দিন ও মাতা মোছা. হাসনা হেনা বানুর মেয়ে।

চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি জাকিয়া সুলতানা রুপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আদালতে সব সাক্ষী ও যুক্তিতর্ক সমাপ্ত করে ১২ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিন ধার্য করেন টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া।

গত বছরের ২৪ আগস্ট বগুড়াতে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা দেয়ার জন্য যায় রুপা। পরীক্ষা শেষে পরদিন ২৫ আগস্ট বিকেলে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহগামী নিরাপদ পরিবহনের ‘ছোঁয়া’ নামের (ঢাকা মেট্রো ব-১৪-৩৯৬৩) একটি বাসে ওঠেন তিনি। ময়মনসিংহে এক আত্মীয়োর বাসায় রাত কাটিয়ে তারপর শেরপুর শহরের কর্মস্থলে যেতে চেয়েছিলেন রুপা। কিন্তু তার গন্তব্যে আর পৌঁছানো হয়নি। ওই বাসের ভেতর চালক, সুপারভাইজার এবং তিন হেলপার তাকে একে একে ধর্ষণের পর পৈশাচিক কায়দায় খুন করে জানালা দিয়ে বাইরে ছুড়ে ফেলে দিয়ে যায় রক্তাক্ত লাশ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ‘ছোঁয়া’ নামের পরিবহনে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রুপা খাতুনকে চলন্ত বাসে পরিবহন শ্রমিকরা ধর্ষণ করে। পরে তাকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে রেখে যায়। পুলিশ ওই রাতেই তার লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্তানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর ২৮ আগস্ট সোমবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে ও মধুপুর থানায় এসে নিহতের বড় ভাই লাশের ছবি দেখে রুপাকে শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর (৪৫), সুপারভাইজার সফর আলী (৫৫) এবং সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে (১৯) গ্রেফতার করে।

পুলিশের কাছে গ্রেফতাররা রুপাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে ২৯ আগস্ট বাসের তিন সহকারী শামীম, আকরাম, জাহাঙ্গীর এবং ৩০ আগস্ট চালক হাবিবুর এবং সুপারভাইজার সফর আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

রুপা হত্যা মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে ৩ জানুয়ারি বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে এই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। ২০ দিনের মধ্যে এই মামলায় জব্দ তালিকা, সুরতহাল রিপোর্ট, ৪ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২৭ সাক্ষীর আদালতে সাক্ষ্য ও জেরা সমাপ্ত হয়। চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি জাকিয়া সুলতানা রুপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আদালতে সব সাক্ষী ও যুক্তিতর্ক সমাপ্ত করে ১২ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিন ধার্য করা হয়।

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul