adimage

২৪ Jul ২০১৯
সকাল ১০:১৪, বুধবার

পার্লামেন্টে তৃতীয় দফা ভোট আগামী সপ্তাহে

আপডেট  02:13 AM, মার্চ ১৫ ২০১৯   Posted in : আন্তর্জাতিক    

পার্লামেন্টেতৃতীয়দফাভোটআগামীসপ্তাহে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৫ মার্চ : ব্রিটেনের সমঝোতার ভিত্তিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার প্রক্রিয়া জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠছে। প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে তাঁর ব্রেক্সিট চুক্তি তৃতীয়বারের মতো পার্লামেন্টে তুলবেন আগামী সপ্তাহে। এতে কিছু পরিবর্তন ও সংযোজন-বিয়োজন থাকবে। তবে তাতে প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্থাৎ ব্রিটিশ এমপিদের সমর্থন পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়ে গেছে। কারণ এর আগে দুই দফা এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। আবার চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটও তাদের পছন্দ নয়। গত বুধবার এসংক্রান্ত একটি বিল বাতিল করে দেয় তারা।

এদিকে ব্রেক্সিটের মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে গতকাল রাতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হয়। তাতে ৪১২ জন এমপি মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে ভোট দেন; বিপক্ষে দেন ২০২ জন। এ ভোটাভুটির ফলে পূর্বনির্ধারিত ২৯ মার্চের মধ্যে যুক্তরাজ্যের পক্ষে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এর ফলাফল যদি ইতিবাচক হয় তাহলে সম্ভবত দীর্ঘমেয়াদি ব্রেক্সিট জটিলতায় পড়তে যাচ্ছে ব্রিটেন। অর্থাৎ চুক্তি নিয়েই হয়তো আবারও আলোচনা শুরু করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে ইইউ সম্মতি লাগবে তাদের। ইউরোপীয় কমিশন অবশ্য আগেই সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ব্রিটেনের এই কালক্ষেপণ যদি আগামী মে মাসের শেষ অবধি গড়ায় তাহলে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচনে অংশ নিতে হবে ব্রিটেনকে। বিষয়টি তখন আর ব্রিটেনের মন-মর্জির ওপর নির্ভরশীল থাকবে না।

দীর্ঘ জটিলতার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মেও। তিনি বলেন, তৃতীয়বারও তিনি যদি ব্যর্থ হন তাহলে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া দীর্ঘ বিলম্বের মধ্যে পড়তে পারে। তবে তৃতীয় দফা ভোটের দিনক্ষণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। আগামী ২৯ মার্চ ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার কথা। গতকাল যদিও ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সময় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ভোট দেয় তাহলে ২৯ মার্চ চুক্তি ছাড়াই ইইউ থেকে বের হয়ে যেতে হবে ব্রিটেনকে।

২০১৬ সালের ২৩ জুন ব্রিটেন এক গণভোটে ইইউয়ের সঙ্গে দেশটির চার দশকের সম্পর্কোচ্ছেদের রায় হয়। ভোটে হারের পর রক্ষণশীল দলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করলে টেরেসা  মে সেই দায়িত্ব নিয়ে বিচ্ছেদের পথরেখা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেন। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক এই  জোট থেকে কোন প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্য আলাদা হবে এবং এরপর ইইউভুক্ত বাকি ২৭টি রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক কেমন হবে, সেই পথ বের করার জন্য সময় নেওয়া হয় ২১ মাস।

আগামী ২৯ মার্চ সেই সময়সীমা উত্তীর্ণ হওয়ার আগে ব্রিটেনকে তার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে হবে।  সেই লক্ষ্যে ইইউয়ের সঙ্গে দীর্ঘ দর-কষাকষির মাধ্যমে ব্রেক্সিট চুক্তির একটি খসড়া তৈরি করেন টেরেসা  মে। কিন্তু গত জানুয়ারিতে পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে তা বিপুল ভোটে বাতিল হয়ে যায়।

এরপর ইইউয়ের সঙ্গে ফের বসেন মে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে চুক্তির খসড়ায় কিছু বিষয়ে তিনি পরিবর্তন আনেন। কিন্তু তাঁর সেই প্রস্তাবও গত মঙ্গলবার বাতিল করে দেন ব্রিটিশ এমপিরা।

এই পরিস্থিতিতে যে বিকল্পগুলো ব্রিটেনের সামনে ছিল তার একটি হলো ‘নো ডিল ব্রেক্সিট’। অর্থাৎ ২৯ মার্চ যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে এমনিতেই বেরিয়ে যাবে, কোনো চুক্তি হবে না। সে ক্ষেত্রে বিচ্ছেদ হবে হুট করেই, বিচ্ছেদপরবর্তী সম্পর্ক কেমন হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কর কাঠামো কেমন হবে, কূটনৈতিক সম্পর্কের ধরনই বা কী হবে, সেসব বিষয় অনির্ধারিতই থেকে যাবে।

গত বুধবার রাতে সেই প্রশ্নে হাউস অব কমনসের ভোটাভুটিতে ৩১২ জন এমপি চুক্তি ছাড়া ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন আর পক্ষে ভোট পড়ে ৩০৮ জনের।

ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী বুধবারে ভোটের ফলাফল সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ সরকার চাইলে এখনো কোনো চুক্তি ছাড়াই ইইউ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।


সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul