adimage

১৮ ডিসেম্বর ২০১৮
বিকাল ০৬:৪০, মঙ্গলবার

‘উদ্বাস্তু বহনকারী অনেক নৌকায় ছিদ্র করে সাগরে ডুবিয়ে দেয়ার ভিডিও রয়েছে’

আপডেট  05:53 AM, অক্টোবর ১১ ২০১৮   Posted in : আন্তর্জাতিক    

‘উদ্বাস্তুবহনকারীঅনেকনৌকায়ছিদ্রকরেসাগরেডুবিয়েদেয়ারভিডিওরয়েছে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১১ অক্টোবর : তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেছেন, ‘যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ায় একটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করার জন্য তুরস্কের দেয়া প্রস্তাবটিকে তাদের কিছু মিত্র দেশ প্রতিনিয়ত অন্তর্ঘাত করে চলেছে।’

চলতি মাসের ৯ তারিখে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

বুদাপেস্টে তুর্কি-হাঙ্গেরিয়ান ব্যবসায়িক ফোরামে দেয়া এক বক্তব্যে এরদোগান আরো বলেন- ‘সিরিয়ায় একটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার করার জন্য আমরা একটি প্রস্তাব দিয়েছিলাম যাতে করে সিরিয়ার মিলিয়নেরও বেশী নাগরিকের জীবন রক্ষা পায়। তবে আমাদের কিছু মিত্র ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের দেয়া প্রস্তাবটিকে এড়িয়ে চলছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রথমত সিরিয়ার জনগণ এবং এর পরে তুরস্কের মত পার্শ্ববর্তী দেশসমূহকে সিরিয়ায় আসন্ন যে কোনো ধরণের বিপর্যয়ের জন্য ব্যাপক মূল্য দিতে হতে পারে।’

সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রাক্কালে তুরস্ক উদ্বাস্তু সংকট মোকাবেলার জন্য দেশটিতে একটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করার প্রস্তাব আনলে তুরস্কের ন্যাটোভুক্ত মিত্র যুক্তরাষ্ট্র তা গ্রহণ করেনি।

এরদোগান বলেন, ‘আমি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলতে চাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বাস্তু সংকট মোকাবেলায় তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে নি।’

‘আমরা দেখেছি অনেক উদ্বাস্তুকে এজিয়ান সাগর এবং ভূমধ্যসাগরে ডুবে মরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। এমনকি উদ্বাস্তু বহনকারী অনেক নৌকায় ছিদ্র করে তাদেরকে সাগরে ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল। আমাদের কাছে এসবের ভিডিও ফুটেজ রয়েছে।’

এরদোগান বলেন, গত কয়েক মাস ধরে তুর্কি অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য ভেতর বাহির থেকে আক্রমণ চালানো হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমঝোতার অংশ হিসেবে তুরস্ক সিরিয়ার ইদলিব শহরে যেকোনো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে এবং একই সাথে দেশটি ইদলিব শহরের বিদ্রোহীদের নিরস্ত্রীকরণের জন্য কূটনৈতিকভাবে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

চলতি মাসের ৮ তারিখে এরদোগান তুরস্ককে ইউরোপের সাথে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার ব্যাপারে আরো আন্তরিক হওয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানান।
এরদোগান বুদাপেস্টে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরাবানের সাথে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলনে, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের তুরস্ককে গ্রহণ করবে কি করবে না তা পরিষ্কার করা দরকার।’

তিনি বলেন- ‘তুরস্ককে ১৯৬৩ সাল থেকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। অন্য কোনো ইউরোপীয় দেশের সাথে এমন আচরণ করা হয় নি।’

প্রসঙ্গত, ১৯৬৩ সালে তুরস্ক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক জোটের সাথে তুরস্ককে ইউরোপীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে আঙ্কারাতে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

তুরস্ক পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক জোটের সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করে এবং ১৯৯৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার জন্য যোগ্যতা লাভ করে। আর তুরস্ককে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে একীভূত করার জন্য ২০০৫ সাল থেকে আলাপ আলোচনা চলতে থাকে।

কিন্তু ২০০৭ সালে তুরস্কের ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেয়া মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তবে গ্রিস সাইপ্রাস দ্বীপ নিয়ে তুরস্কের সাথে কূটনৈতিক টানাপোড়নের জের ধরে তুরস্কের সদস্য পদে ভেটো দিয়ে তা আঁটকে দেয়।

হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ওরবান বলেন, ‘হাঙ্গেরির নিরাপত্তা তুর্কি নিরাপত্তার সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত।’

তিনি বলেন- ‘তুরস্কে একটি স্থিতিশীল সরকার থাকলে তা হাঙ্গেরির নিরাপত্তার জন্য সহায়ক হবে।’

ওরবান আরো বলেন, একটি স্থিতিশীল তুরস্ক হাঙ্গেরির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা তা এই অঞ্চলের শান্তির জন্য এবং অবৈধ অভিবাসী মোকাবেলার জন্য সহায়ক হবে।

সূত্রঃ হুররিয়েত ডেইলি নিউজ।

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul