adimage

১৯ নভেম্বর ২০১৯
বিকাল ০৭:৪৭, মঙ্গলবার

পাইকারি ও খুচরায় পেঁয়াজের দামে ব্যাপক ফারাক

আপডেট  02:29 AM, অক্টোবর ৩১ ২০১৯   Posted in : অর্থ ও বাণিজ্য     

পাইকারিওখুচরায়পেঁয়াজেরদামেব্যাপকফারাক

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ৩১ অক্টোবর :  পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। পাইকারি ও খুচরা বাজারে দামের ব্যবধান ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। বুধবার রাজধানীর পুরান ঢাকার ঠাটারীবাজারের পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

তবে রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১৩০ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এ দফায় পাইকারি ও খুচরা বাজারে প্রতি কেজিতে পাঁচ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি বিপণন অধিদফতরসহ মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পেঁয়াজের মজুদ সম্পর্কেও তারা তথ্য সংগ্রহ করছেন।

মঙ্গলবার পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। একদিনের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে দাম পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। একইদিন খুচরা বাজারে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়।

খুচরা বাজারে একদিনের ব্যবধানে পাঁচ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এখন পাইকারি ও খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দামের ব্যবধান ১০ থেকে ২০ টাকা। এ ব্যবধান আগে ছিল দুই থেকে চার টাকা।

জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে সীমান্ত বাণিজ্যের আওতায় পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। বুধবার পেঁয়াজবোঝাই চারটি ট্রলার খালাস করা হয়েছে। এতে টেকনাফে পেঁয়াজের কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকায় নেমে এসেছে। নিুমানের কিছু পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টেকনাফ থেকে পেঁয়াজ চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে সরবরাহ করা হচ্ছে।

এছাড়া মিয়ানমার থেকে আরও পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। এছাড়া তুরস্ক, মিসর ও থাইল্যান্ড থেকেও পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এগুলো আগামী সপ্তাহে দেশে পৌঁছবে।

ফলে শিগগিরই পেঁয়াজের দাম কমে আসবে বলে আশা করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, সেপ্টেম্বরে ৫২ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির এলসি খোলা হয়েছে। ১ অক্টোবর থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।

সূত্র জানায়, দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ লাখ টন। এরমধ্যে ১৪ থেকে ১৫ লাখ টন দেশে উৎপাদিত হয়। বাকি ১০ থেকে ১১ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। এর বেশির ভাগই ভারত থেকে আসে।

এবার বন্যার কারণে ভারতে পেঁয়াজের উৎপাদন কম হওয়ায় সেদেশের সরকার পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করেছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করে। পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর প্রতি কেজির দাম এক লাফে বেড়ে ৬০ টাকা হয়। এরপর কয়েকদিনের মধ্যে ১১০ টাকায় উঠে। এর মধ্যে দাম কিছুটা কমলেও আবার বাড়তে শুরু করে।

সূত্র জানায়, ২৭ সেপ্টেম্বরে ভারত পেঁয়াজের রফতানি মূল্য ৩৯০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৮০০ ডলারে উন্নীত করলে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। দেশে আগস্টে পেঁয়াজের কেজি ছিল ৩০ টাকা। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ টাকায়।

আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজের এলসি মূল্য ছিল ১৮ থেকে ২০ টাকা। ভারত রফতানি মূল্য দ্বিগুণ করায় এলসি মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। কিন্তু খুচরা বাজারে ১৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি বিপণন অধিদফতর সূত্র জানায়, পেঁয়াজের দাম এত বেশি বাড়ার পেছনে সিন্ডিকেটের কারসাজি রয়েছে। ভারত আমদানি মূল্য দ্বিগুণ করার ফলে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৩০ টাকা থেকে ৬৯ বা ৭০ টাকা হতে পারে। এর বেশি হওয়ার কোনো কারণ নেই।

এছাড়া মিয়ানমার থেকে ৩৫০ থেকে ৪০০ ডলারে প্রতি টন পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। ফলে এগুলোর দাম কমার কথা। কিন্তু ওইসব পেঁয়াজও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চারটি টিম বাজারে কাজ করছে। তারা পেঁয়াজের মজুদের পাশাপাশি আমদানি মূল্যও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। কোনো কারসাজি পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব জাফর উদ্দিন। -যুগান্তর

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul