adimage

২৩ অক্টোবর ২০১৯
বিকাল ০৮:০৬, বুধবার

সেই ৩৫ বস্তা টাকা বাড়ি নিয়ে গেল স্থানীয়রা

আপডেট  02:17 AM, সেপ্টেম্বর ২৫ ২০১৯   Posted in : অর্থ ও বাণিজ্য     

সেই৩৫বস্তাটাকাবাড়িনিয়েগেলস্থানীয়রা

বগুড়া, ২৫ সেপ্টেম্বর : তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে বগুড়ায় বিলে পাওয়া এক ট্রাক কুচি কুচি ছেঁড়া টাকা নিয়ে।

সোমবার রাতের কোনো একসময় বগুড়া পৌরসভার ট্রাকে করে টাকার বর্জ্যগুলো শাজাহানপুর উপজেলার খাড়ুয়া ব্রিজের কাছে একটি বিলে ফেলা হয়।

মঙ্গলবার বেলা বাড়লে স্থানীয় জনতার নজরে আসে সেগুলো। মুহূর্তেই বস্তা বস্তা টাকা ফেলে দেয়ার তথ্য ছড়িয়ে পড়ে।

চারিদিকে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে চলমান শুদ্ধি অভিযানে ভীত হয়ে টাকাগুলো রাতের আঁধারে ফেলে দিয়ে গেছে দুর্নীতিবাজরা।

এমন গুজবে ওই বিলে উৎসুক মানুষের ঢল নামে। কিন্তু বস্তা খুলে অগণিত কুচি কুচি করে কেটে ফেলা ৫০০, ১ হাজার টাকার নোট পাওয়া যায়।

এতো টাকা কুচি কুচি করা হলো কেন তা দেখতে ও জানতে জনতার ভিড় বাড়তেই থাকে। পরিস্থিতি সামাল দেয় পুলিশ। খবর পেয়ে সাংবাদিকরা ছুটে আসলে পুলিশ জানায়, এসব কুটি কুটি করা টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্জ্য।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়া শাখার যুগ্ম ব্যবস্থাপক মো. শাজাহান জানান, ফেলে দেয়া টাকার টুকরোগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়ার শাখার বাতিলকৃত, অপ্রচলনযোগ্য নোটের টুকরো। এগুলো মেশিন দিয়ে কেটে ফেলা হয়েছে, যা কখনই জোড়া লাগানো যাবে না। বগুড়া পৌরসভাকে এই ছেঁড়া টাকাগুলো ধ্বংস করার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছিল।

কিন্তু জোড়া লাগানো যাবে না শুনেও স্থানীয়দের অনেককেই এসব কুচি কুচি করা নোট বাড়ি নিয়ে যেতে দেখা গেছে।

এমনটা কেন করছেন তারা জিজ্ঞেস করলে একজন জানান, এগুলো দিয়ে তো আর বাজার করা যাবে না, কিন্তু বাজার রান্না করা যাবে। এগুলো শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করব।

আরেক স্থানীয় জানান, কুটি কুটি করা হোক আর বাতিল হোক, একসঙ্গে এতো টাকা আমি জীবনেও দেখিনি। আমার মা-বোন আর স্ত্রীও দেখেনি। তাই তাদের দেখাতে নিয়ে যাচ্ছি। পরে শুকিয়ে এসব জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করব।

স্থানীয়দের সচেতনরা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্জ্য হলেও রাতে সবার অলক্ষ্যে এসব টাকা এভাবে বিলে ফেলা ঠিক হয়নি। তাছাড়া ছেঁড়া টাকার বর্জ্য ফেলার ঘটনা এটিই প্রথম বলে ধারণা তাদের।

এ কাণ্ডে বগুড়াসহ দেশব্যাপী একটি গুজব রটানোর পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে অভিমত দেন তারা।

তারা জানান, তথ্যটি সঠিকভাবে যাচাই না করে এই টাকাকে কালো টাকা আখ্যায়িত করে সকালে অনেকে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। যে কারণে শহরে এটি নিয়ে যেমন চাঞ্চল্য ছড়ায় তেমনি সঠিক তথ্য উদ্ধারে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের ঘাম ঝড়াতে হয়েছে।

এ বিষয়ে বগুড়া পৌরসভার বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা রাফিউল আবেদীন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়া শাখার যুগ্ম ব্যবস্থাপক স্বাক্ষরপত্রে তাদের বাতিলকৃত, অপ্রচলনযোগ্য নোটের টুকরো পৌরসভার বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেয়ার চিঠি দেয়া হয়। সেই চিঠি অনুযায়ী পৌরসভার ট্রাকে করে এক ট্রাক নোটের টুকরো ফেলে দেয়া হয়। তারা আগে কখনো এ ধরনের বর্জ্য অপসারণ করেননি। যে কারণে সেগুলো পুড়িয়ে ফেলতে হবে না পুঁতে ফেলতে হবে সে ব্যাপারে তাদের কোনো ধারণা নেই। ফলে ময়লার ভাগাড়ে টাকার বর্জ্যগুলো ফেলা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়া শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ব্যাংকিং) সরকার আল ইমরান জানান, আগে এগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে নির্দিষ্ট একটি স্থানে পুড়িয়ে ফেলা হতো। কিন্তু পরিবেশ দূষণ হওয়ায় টুকরোগুলো আর পোড়ানো হচ্ছে না। এখন ময়লা হিসেবে পৌরসভার মাধ্যমে বস্তায় ভরে ফেলে দেয়া হচ্ছে। এভাবে ছেঁড়া টাকার বর্জ্য ফেলার ঘটনা এটিই প্রথম।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী জানান, এটি এভাবে ফেলে পৌরসভা ঠিক কাজ করেনি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ছেঁড়া টাকার নমুনা পুলিশ সংগ্রহে রেখেছে।

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul