adimage

২৩ অগাস্ট ২০১৯
বিকাল ০৩:১৬, শুক্রবার

ঈদের আগে এলাচের দাম বেড়ে দ্বিগুণ

আপডেট  02:12 AM, Jul ৩০ ২০১৯   Posted in : অর্থ ও বাণিজ্য     

ঈদেরআগেএলাচেরদামবেড়েদ্বিগুণ

ঢাকা, ৩০ জুলাই : এক মাস আগে থেকেই অস্থির মসলার বাজার। কোরবানির আগে দেড় মাসের প্যাকেজ নিয়ে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী সক্রিয় হয়ে ওঠায় মসলার বাজারে এই অস্থিরতা নেমে এসেছে। কোরবানির ১৫ দিন বাকি থাকতেই ওই ঈদে ব্যবহৃত হয় এমন ৬টি মসলার দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে।

সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এলাচের দাম। পণ্যটির দাম এক মাসেই বেড়েছে দ্বিগুণ। দাম বেড়েছে- দারুচিনি, লবঙ্গ, আদা, পেঁয়াজ ও রসুনের। ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা বর্ষা ও বিশ্ব বাজারে বৃদ্ধির কারণে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে সরকারি সংস্থা বলছে, দাম বৃদ্ধির যৌক্তিক কারণ নেই। কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছেন তারা।

জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার এ প্রতিবেদককে বলেন, মাসখানেক আগ থেকেই মসলাজাতীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। কোরবানির ঈদে ভোক্তাদের যাতে বেশি দামে মসলা কিনতে না হয় এজন্য বাজার তদারকি করা হচ্ছে। কিছু পণ্যের দাম নতুন করে বৃদ্ধির বিষয়টি তদারকি করা হবে। অন্যায়ভাবে বাড়ালে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

সোমবার রাজধানীর কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হতে দেখা যায় ২৬০০-৩০০০ টাকায়। এক মাস আগে ছিল ১৩০০-১৪০০ টাকা। কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে ১৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে লবঙ্গ। আদা বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৬০ টাকায়, এক মাস আগে ছিল ১২০-১৪০ টাকা, দেশি রসুন ১০০-১১০ টাকা থেকে বেড়ে ১২৫-১৫০ টাকা। আমদানি করা রসুন ১৫০-১৭০ টাকা, দারুচিনি ৫০০-৬০০ টাকা, এক মাস আগে ছিল ৩৩০-৩৪০ টাকা। সাদা গোলমরিচ ৫৫০-৬০০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮০০ টাকায়।

পেঁয়াজের দাম ২৫-৩০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকায়। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজার দরের তালিকায়ও এলাচের দাম বৃদ্ধির চিত্র দেখা গেছে ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। মানভেদে আদার দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ২৩ শতাংশ।

রসুন বেড়েছে ৩০ দশমিক ৫৯ শতাংশ, আমদানি করা রসুন বেড়েছে ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। দারুচিনির দাম বেড়েছে ৩০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। কারওয়ান বাজারের মসলা বিক্রেতা কামাল হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, এলাচের দাম অনেক বেড়েছে। এক মাস আগে এলাচের পাইকারি দর ছিল ১১০০-১২০০ টাকা, বর্তমানে ২২০০-২৪০০ টাকা।

একই বাজারে আদা ও রসুন বিক্রেতা আল-আমিন এ প্রতিবেদককে বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগ থেকেই পাইকারি বাজারে আদা ও রসুনের দাম বাড়তি। পাইকাররা বলেন, চাহিদার তুলনায় জোগান কম। বেশি দাম দিয়ে আনতে হচ্ছে। বাজারে মসলা কিনতে আসা আরিফ এ প্রতিবেদককে বলেন, এসব ব্যবসায়ীর কারসাজি।

তারা কোরবানির এক থেকে দেড় মাস আগেই চাহিদা থাকায় মসলাজাতীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। কারণ কোরবানির ঈদ ঘিরে মসলাজাতীয় পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে। বেচাবিক্রিও হয় বেশি। এজন্য সময় বুঝে বেশি মুনাফা করতে মরিয়া হয়ে ওঠে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। তাই বাজার মনিটরিং অনেক জোরদার করতে হবে।

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গত বুধবার মসলা আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সভা করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তার পরও বাজারে মসলার দামে কোনো হেরফের হয়নি। বাণিজ্যমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, নিত্যপণ্যের মূল্য, সরবরাহ ও মজুদ পরিস্থিতি তদারকি জোরদারের জন্য ঢাকাসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

যাতে কোনো পণ্যের কৃত্রিম সংকট না হয় বা দাম না বাড়ে সেজন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। জানা গেছে, বর্তমান বিশ্বে ১০৯ ধরনের মসলা চাষ করা হলেও বাংলাদেশে ব্যবহৃত হচ্ছে প্রায় ৪৪টি মসলা। এর মধ্যে চাষ করা হয় মাত্র ৩৪টি। কৃষি অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে চাহিদা প্রায় ৫৫ লাখ টন।

এর মধ্যে ৪০ লাখ টন দেশে উৎপাদিত হয়। আর ১৪ লাখ টনের কিছু বেশি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। উচ্চ মূল্যের মসলার মধ্যে এলাচ ও দারুচিনি আমদানি করতে হয় ১১ হাজার টন করে। গোল মরিচ দেড় হাজার টন। আর ৫ লাখ ৫১ হাজার ৩৪৯ হেক্টর জমিতে মসলা চাষ করা হয়।

সর্বশেষ বছরে যে উৎপাদন তথ্য পাওয়া গেছে তার মধ্যে রয়েছে ৬ লাখ ৫৮০ টন, শুকনা মরিচ ২ লাখ ২৬ হাজার ৩১১, পেঁয়াজ ১৯ লাখ ৫৮ হাজার ৫৪৪, রসুন ৫ লাখ ২৭ হাজার ৮৩৩, আদা ২ লাখ ২৩ হাজার ২৪৩, হলুদ ৩ লাখ ১৫ হাজার ৪২২, দারুচিনি সাড়ে ৯, তেজপাতা ২ হাজার ১৫৩, কালোজিরা ১২ হাজার ৯১৯, ধনিয়া ৭০ হাজার ৪৬৫, গোলমরিচ ৬ টন ও অন্যান্য মসলার উৎপাদন হয়েছে ৫ হাজার ৪৭ টন। -যুগান্তর

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul