adimage

১৫ নভেম্বর ২০১৯
বিকাল ০২:৩৩, শুক্রবার

ফল পাকানো ওষুধ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থান

আপডেট  08:01 PM, মে ২৯ ২০১৮   Posted in : অর্থ ও বাণিজ্য     

ফলপাকানোওষুধনিয়েপাল্টাপাল্টিঅবস্থান

ঢাকা, ৩০ মে : বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, ইথেফন দিয়ে পাকানো ফল ‘সম্পূর্ণ নিরাপদ’। তা মানুষের জন্য ‘ক্ষতিকর না’। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই বক্তব্য ‘বিজ্ঞানসম্মত নয়, দেশের আইনেই ইথেফন নিষিদ্ধ।’  

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)। সেখানে ইথেফন নিয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেছেন একাধিক বিশেষজ্ঞ। তবে এসব সমালোচনা মানছে না নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।  

পবার সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক বলেন, ‘কেউ কেউ বলেছেন যে ইথেফনে পাকানো আম কলা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং এসব ধ্বংস করা না কি অনুচিত কাজ হয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্য বিজ্ঞানসম্মত নয়। ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ইথেফনে পাকানো আম, কলা ও অন্যান্য ফল যে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর তা দেশে-বিদেশে অনেক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে ফল পাকানোর রাসায়নিক কার্বাইড এবং ইথেফন যে ক্ষতিকর তার বেশ কিছু গবেষণালব্ধ প্রমাণ তুলে ধরেন অধ্যাপক আ ব ম ফারুক। তিনি বলেন, ‘কার্বাইড এবং এই ইথেফন আমাদের আইনেই নিষিদ্ধ। এটা ভারতের আইনে নিষিদ্ধ। গেজেটের মধ্যে পরিষ্কারভাবে বলা আছে। একজন সরকারি কর্মকর্তা তিনি গেজেট মানেন না, তিনি আইন মানেন না, তিনি বিজ্ঞান মানেন না। এটা আমরা নাগরিকরা মেনে নিতে পারছি না।’

সংবাদ সম্মেলনে পবার যুগ্ম সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মাহফুজুল হক তাঁর পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন।’

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য নিয়ে যোগাযোগ করা হয় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল রউফ মামুনের সঙ্গে। তিনি জানান, তাঁরা তাঁদের অবস্থানে অনড়। তাঁরা বিজ্ঞানের বাইরে যেতে পারেন না। তিনি বলেন, ‘ইথেফন আমাদের দেশ, ভারত এবং সারা বিশ্বে একটি অনুমোদিত রাইপেনিং এজেন্ট। ইথেফন দিয়ে যদি ফল পাকানো হয় সায়েন্টিফিক ওয়েতে ফলটা সম্পূর্ণ নিরাপদ। মানুষের জন্য কোনো ক্ষতিকর না।’

অধ্যাপক রউফ বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য আইনের প্রথম আইনেই বলা আছে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির যথাযথ অনুসরণ করে তবে আমাদের নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে মাঠ পর্যায় থেকে শুরুর করে খাবারের প্লেট পর্যন্ত। আমরা বৈজ্ঞানিক ফলাফল বা সায়েন্টিফিক পদ্ধতির বাইরে যাব না।’

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul