adimage

২৩ মে ২০১৮
বিকাল ০২:৪৯, বুধবার

বুড়িগঙ্গার বিভিন্ন লঞ্চ ও খেয়াঘাট শুল্ক আদায়ে স্বেচ্ছাচারিতা?

আপডেট  07:06 AM, জানুয়ারী ১৫ ২০১৮   Posted in : অপরাধ জগৎ    

বুড়িগঙ্গারবিভিন্নলঞ্চওখেয়াঘাটশুল্কআদায়েস্বেচ্ছাচারিতা?

ঢাকা, ১৫ জানুয়ারিবুড়িগঙ্গা নদীর বেশির ভাগ লঞ্চ ও খেয়াঘাটে যাত্রী পারাপার ও মালামাল বহনে ইজারার শর্ত ভেঙে অতিরিক্ত শুল্ক আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঢাকা নদীবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা নদীর উভয় পাড়ে ১৬টি খেয়াঘাট ও ৫টি লঞ্চঘাট প্রতিবছর দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা দেয় সরকার। লঞ্চঘাটগুলো হলো সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, ফতুল্লা, সোয়ারী ঘাট, খোলামোড়া ও শ্যামপুর লঞ্চঘাট। ইজারার শর্ত অনুযায়ী, প্রতিবার যাত্রী পারাপারে ২ টাকা, এক কুইন্টাল মালামাল বহনে ৫ টাকা, হাঁস-মুরগির প্রতি ঝুড়ির জন্য ৫ টাকা এবং টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, এসি বহনে ১০ টাকা হারে শুল্ক আদায় করা যাবে।

গত শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ঢাকা নদীবন্দরের আওতাধীন বুড়িগঙ্গা নদী এলাকার বেশ কয়েকটি খেয়াঘাট ও লঞ্চঘাট সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। এ সময় যাত্রীসাধারণের কাছ থেকে দ্বিগুণ, তিন গুণ, এমনকি পাঁচ গুণের বেশি শুল্ক আদায় করতে দেখা গেছে।

লালকুঠি টার্মিনালে মিরপুর ১২ নম্বর থেকে এসেছিলেন আবুল হোসেন। সঙ্গে একটি কম্পিউটার ও একটি প্রিন্টার। চাঁদপুরের লঞ্চে উঠবেন তিনি। লঞ্চঘাটের ইজারাদারের লোকজন ইলেকট্রনিক মালামাল বহনের জন্য তাঁর কাছে শুল্ক বাবদ ৩০০ টাকা দাবি করেন। দর-কষাকষির একপর্যায়ে এসব মালামাল বহনের জন্য ১৮০ টাকা দিয়ে লঞ্চে ওঠেন তিনি। আবুল হোসেন বলেন, ‘আমার মালামালের ওজন সর্বোচ্চ ১০ কেজি। এর শুল্ক ১৫-২০ টাকা হতে পারে। অথচ ১০ গুণ শুল্ক আদায় করা হয়েছে। রসিদও দেওয়া হয়নি।’

মুন্সিগঞ্জে যাচ্ছিলেন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ইলিয়াছ আলী। তিনি বলেন, ‘আমি কেরানীগঞ্জের আলম মার্কেট থেকে দুই বস্তা শীতের কাপড় নিয়ে খেয়া নৌকায় এসে লঞ্চে উঠেছি। বস্তা দুটি নিয়ে লঞ্চে ওঠামাত্র দুজন ঘাটশ্রমিক এসে বলেন, দুই বস্তার জন্য ঘাটের ভাড়া ২০০ টাকা। অনেক বাগ্‌বিতণ্ডার পর আমি তাঁদের ১৫০ টাকা দিয়েছি।’

বেলা ১১টায় সোয়ারীঘাটে দাঁড়িয়ে ছিলেন সালাম কাজী। হাতে প্রায় ১২ কেজির কার্টন। খেয়া নৌকায় জিনজিরা ফেরিঘাট যাবেন। এমন সময় এক ব্যক্তি হাতে সাদা কাগজ নিয়ে এসে তাঁকে বলেন, মালের ভাড়া দিতে হবে। এরপর হাতে কাগজটি ধরিয়ে বলেন, মালের ভাড়া ৩০ টাকা। সালাম বুঝিয়ে-সুজিয়ে ২০ টাকা দিয়ে খেয়া নৌকায় ওঠেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আমি এখানে এমনি মালের ভাড়া নিচ্ছি না। আমরা তাগো লিখিত কাগজ দেই। সরকারি ভাড়ার বেশি আদায় করছি না।’

বেলা ২টায় খোলামোড়া লঞ্চঘাটে গিয়েও যাতায়াতকারী লোকদের মালামাল বহনে দ্বিগুণ-তিন গুণ শুল্ক আদায় করতে দেখা যায়। কেরানীগঞ্জের বামনশুড় এলাকার বাসিন্দা রহিম ফরাজী বলেন, ‘রাজধানীর চকবাজার যাব। দুই কার্টন মোমবাতি নিয়ে যাচ্ছি। ইজারাদারের লোকজন এর ভাড়া নিয়েছে ৪০ টাকা। অথচ দুই কার্টনের ওজন ১৪ কেজির বেশি না। কিছু বলেও লাভ নাই। তারা যা চায়, তাই দেওয়া লাগবে। আমরা ইজারাদারের লোকজনের কাছে জিম্মি। তাদের কিছু বলতে গেলে ঝগড়া বাধে। এমনকি মারধরের ঘটনাও ঘটে।’

খোলামোড়া খেয়াঘাট দিয়ে যাতায়াতকারী মিজানুর রহমান বলেন, মাসখানেক আগেও এই ঘাট দিয়ে পারাপারের জন্য মাথাপিছু ২ টাকা নেওয়া হতো। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে ৩ টাকা হারে আদায় করা হচ্ছে।

নুরুল ইসলাম নামের একজন নিজেকে খোলামোড়া খেয়াঘাটের পরিচালক পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আমরা সরকার নির্ধারিত শুল্ক আদায় করছি। আর যাত্রী পারাপারে প্রতিবারের জন্য ২ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। জনগণ অনেকটা বাড়িয়ে বলে থাকে। তাদের অভিযোগ সঠিক নয়।’

খোলামোড়া লঞ্চঘাটের ইজারাদার আবু ইউসুফ মিয়া গতকাল রোববার প্রথম আলোকে বলেন, অতিরিক্ত শুল্ক আদায় করা হচ্ছে না। যাত্রীরা মিথ্যা অভিযোগ করছেন।

সদরঘাট লঞ্চঘাট এলাকার ইজারাদার ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন বলেন, ‘লোকজন আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে।’

ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক জয়নাল আবেদীন বলেন, কোনো ইজারাদার বা তাদের লোকজনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত হারে শুল্ক আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul